মানব দেহ কোটি কোটি কোষ, টিস্যু এবং অঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত একটি অত্যন্ত জটিল ও সুসংগঠিত জৈবিক কাঠামো । এটি মূলত মাথা, ঘাড়, ধড় (বক্ষ ও পেট), বাহু এবং পা নিয়ে গঠিত, যা ১০টি প্রধান তন্ত্রের (যেমন: কঙ্কাল, পেশী, স্নায়ু, সংবহন, পরিপাক, শ্বসন) মাধ্যমে সামগ্রিক কাজ সম্পন্ন করে । মানবদেহের প্রায় ৬০-৭০% হলো পানি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রক্ত সংবহনতন্ত্র (Blood Circulatory System)
যে প্রক্রিয়ায় প্রাণিদেহে রক্ত পরিবহনের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে সংবহন প্রক্রিয়া বলে। রক্ত, হৃৎপিন্ড, ধমনি, শিরা এবং লসিকা ও লসিকাবাহী নালির সমন্বয়ে মানব দেহের সংবহনতন্ত্র গঠিত। যে তন্ত্রের মাধ্যমে দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে। হৃৎপিণ্ড, রক্ত ও রক্তবাহী নালির সমন্বয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শ্বেতকণিকা
লোহিত কণিকা
সিএসএফ
অনুচক্রিকা
রক্ত (Blood)
রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। রক্তের উপাদান দুইটি। যথা- রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)। রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে। রক্তে ৩ ধরনের কণিকা রয়েছে। যথা- লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অনুচক্রিকা। মানুষের শরীরের ওজনের ৭% রক্ত থাকে। পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে রক্তের পরিমাণ ৫-৬ লিটার। রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর PH ৭.৩৫-৭.৪৫।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
লোহিতকণিকা
শ্বেতকণিকা
লসিকা
অণুচক্রিকা
রক্তের কাজ
রক্তরসের কাজ + রক্তকণিকার কাজ = রক্তের কাজ
ক) রক্তকণিকার কাজ
লোহিত রক্ত কণিকা (Erythrocyte or Red Blood Cell) : লোহিত রক্তকণিকা অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং বয়ঃপ্রাপ্ত হলে প্লীহায় সঞ্চিত হয় ও এক পর্যায়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। লোহিত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন (৪ মাস)। হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্ঝক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রঙ লাল হয়। মানুষের রক্তের লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন থাকে। কেঁচোর রক্তরসে হিমোগ্লোবিন থাকে। আরশোলার রক্ত সাদা বা বর্ণহীন। হিমোগ্লোবিন এর কাজ-
ক) প্রধানত অক্সিজেন এবং সামান্য পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে। খ) বাফার হিসাবে কাজ করে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে রক্তশূন্যতা (Anaemia) বলে। ভিটামিন বি১২ এবং ফোলিক এসিড লোহিত কণিকার পূর্ণতা প্রাপ্তিতে সহায়তা করে। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে প্রয়োজন হয় আমিষ এবং লৌহ। ভিটামিন বি১২ ফোলিক এসিড, আমিষ এবং লৌহ স্বল্পতা হলে রক্তশূন্যতা হয়।
শ্বেত কণিকা (White Blood Cell): শ্বেত কণিকা দুই প্রকার। যথা- দানাদার (নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল, বেসোফিল) এবং অদানাদার (লিস্ফোসাইট, মনোসাইট)। শ্বেত কণিকার গড় আয়ুষ্কাল কয়েক ঘন্ট থেকে কয়েক দিন। মানুষের শরীরে শ্বেতকণিকা এবং লোহিত কণিকার অনুপাত ১:৭০০। নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। ব্লাড ক্যান্সারে (Leukemia) রক্তের শ্বেত কণিকা অস্বভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এইডস রোগে রক্তের শ্বেত কণিকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
অনুচক্রিকা (Platelets): দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর: (Easy Tec: ফুল পড়ে টুপ করে)
ক) ফিব্রিনোজেন - ফুল
খ) প্রোথ্রোম্বিন - পড়ে
গ) টিস্যু থ্রোম্বোপ্লাস্টিন - টুপ
ঘ) ক্যালসিয়াম আয়ন - করে
রক্তে হেপারিন থাকায় দেহের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে না। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর তৈরিতে সাহায্য করে।
খ) রক্তরসের কাজ
ক. ক্ষুদ্রান্ত হতে খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড) রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কলায় পৌছে।
খ. কলা হতে উৎপন্ন CO2 রক্তরসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌছায়।
গ. কলা হতে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) রেচনের জন্য বৃক্কে নিয়ে যায়।
ঘ. রক্তরসের বাইকার্বনেট, ফসফটে বাফার অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
ঙ. অন্তক্ষরা গ্রন্থি হতে উৎপন্ন হরমোন রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে পৌছায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভিটামিন 'সি'
ভিটামিন 'এ'
ভিটামিন 'ই'
ভিটামিন 'কে'
রক্তের গ্রুপ (Blood group)
মানুষের রক্তের গ্রুপ ৪টি। যথা- A, B, AB, O। O গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা (Universal Donar)। O গ্রুপের রক্ত যে কোন ব্যক্তির শরীরে দেওয়া যায়। অর্থাৎ ০ গ্রুপের রক্ত O, A, B, AB যে কোন গ্রুপধারী ব্যক্তি গ্রহণ করতে পারে এবং AB গ্রুপকে সার্বজনীন গ্রহীতা (Universal Receiver) বলে। AB গ্রুপধারী ব্যক্তি যে কোনো গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে। ব্লাড গ্রুপ কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার আবিষ্কার করেন।
Rh ফ্যাক্টর: লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে রেসাস বানরের লোহিত কণিকার ঝিলির মত একটি এন্টিজেন থাকে। ঐ অ্যান্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর বলে। Rh ফ্যাক্টর বিশিষ্ট রক্তকে Rh +ve রক্ত এবং Rh বিহীন রক্তকে Rh -ve রক্ত বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভিটামিন 'সি'
ভিটামিন 'এ'
ভিটামিন 'ই'
ভিটামিন 'কে'
হৃদপিণ্ড (Heart)
মানুষসহ অধিকাংশ প্রাণির একটি হৃদপিণ্ড থাকে কিন্তু ক্যাটল ফিসের তিনটি হৃৎপিণ্ড থাকে। হৃদপিণ্ড দ্বিস্তরবিশিষ্ট পাতলা পর্দা দ্বারা ঢাকা থাকে, একে পেরিকার্ডিয়াম বলে। হৃদপিণ্ড ৩ স্তর বিশিষ্ট পেশি দ্বারা গঠিত। যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম এবং এন্ডোকার্ডিয়াম। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের হৃদপিণ্ডের ওজন ৩০০ গ্রাম। মানুষের হৃদপিণ্ড ৪টি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট [উপরে ডান ও বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচে ডান ও বাম নিলয় (Ventricle)]। ব্যাঙের হৃদপিণ্ড ৩টি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (উপরে ডান ও বাম অলিন্দ বলে এবং নিচে নিলয়)। হৃত্পিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে সিস্টোল বলে। সিস্টোলিক চাপ বলতে হৃদপিণ্ডের সংকোচন চাপকে বুঝায় এবং হৃদপিণ্ডের প্রসারণ চাপকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে। হার্ট সাউন্ড চার ধরনের।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রক্তবাহিকা তিন প্রকার। যথা: ধমনী, শিরা, কৈশিক জালিকা। ধমনী অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড হতে দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে। শিরা কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃদপিণ্ডে পরিবহন করে। ধমনীর ভিতর দিয়ে নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয়। ডাক্তার রোগীর নাড়ী দেখার সময় প্রকৃতপক্ষে ধমনীর স্পন্দন দেখেন। একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির গড় নাড়ীর স্পন্দন (Pulse rate) ৭২/ মিনিট।
প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে, তাকে রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ দুই প্রকার।
যথা-
ক) সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)
খ) ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
হৃদরোগ (Cardiac Diseases)
করোনারী ধমনী হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ করে। করোনারী ধমনীতে চর্বি জমাট বেধে গেলে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হৃদপিণ্ডের কিছু টিস্যু মরে যায়। এ ঘটনাকে হার্ট এটাক (Myocardial Infarction) বলে। হৃদরোগ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন: ধূমপান, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শারীরিক পরিশ্রম না করা ইত্যাদি।
হৃদরোগের পরীক্ষা
(a) Coronary Angiography
(b) Echo Cardiography: Cardiograph হলো হৃদপিণ্ডের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে হৃদপিণ্ডের গতি পরীক্ষা করার পদ্ধতিকে Echo Cardiography বলে।
(c) E.T.T (Exercise Tolerance Test): হৃদপিণ্ডের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা হয়।
হৃদরোগের চিকিৎসা
(a) Coronary angioplasty: যা হল হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো পদ্ধতির নাম হল করোনারী এনজিওপ্লাস্টি।
(b) Coronary bypass: এ পদ্ধতিতে করোনারী ধমনীর সরু অংশে ইনটারনাল ম্যামারী ধমনী বা সেপনাস শিরার দ্বারা bypass পথ তৈরি করা হয় যাতে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
লসিকা (Lymph)
লসিকা এক ধরনের ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা বাহিকার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং দেহের প্রতিটি কোষকে সিক্ত রাখে। এটি ঈষৎ ক্ষারীয় এবং এর আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০১৫১। এতে লোহিত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু প্রচুর পরিমাণে শ্বেতকণিকা বিদ্যমান। লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। লসিকা নালীর মাধ্যমে লসিকা রক্ততন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করে।
Read more